খাগড়াছড়িতে নানান আয়োজনে বঙ্গমাতার ৯১তম জন্মবাষির্কী পালন

খাগড়াছড়ি

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছার সত্যিই তিনি এক মহীয়সী নারী

॥ খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
খাগড়াছড়িতে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবাষির্কী পালন করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। রবিবার (৮ আগষ্ট) এই উপলক্ষে সকালে শহরের নারিকেল বাগানস্থ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এর আগে কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়–য়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মংক্যচিং চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী, যুগ্ন সম্পাদক আশুতোষ চাকমা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক খোকনেশ^র ত্রিপুরা, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক নিলোৎপল খীসা, পাজেপ সদস্য ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শতরূপা চাকমা, দপ্তর সম্পাদক চন্দন কামার দে, উপ-দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক নুরুল আজম, জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি ক্রইসাঞো চৌধুরীর খাগড়াছড়ি মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনা আক্তার, যুগ্ম সম্পাদক বাঁশরী মারমা, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সুইচিং থুই মারমা, পৌর কমিটির সভাপতি নাই¤্রা মারমা, ছাত্রলীগের আহবায়ক উভিক মোহন ত্রিপুরাসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তরা বলেন “জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ আর বঙ্গমাতার রেখে যাওয়া আদর্শ হতে বাংলাদেশের এই অদম্য অগ্রযাত্রার চাবিকাঠি”।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছার কারণেই শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু হয়েছিলেন। সংসার ও সন্তানদের দোখাশোনার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন বঙ্গমাতা। দেশের সামাজিক পরিবর্তনের জন্য নারীদের কেমন ভূমিকা রাখা উচিত তা বঙ্গমাতার জীবন ও কর্ম থেকে এদেশের নারীদের উপলব্ধি করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদের উদ্যোগে বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় একথা বলেন নেতারা।
বঙ্গবন্ধু কোলকাতায় পড়াশোনা সময় কিশোর বয়সের সহধর্মীনি শেখ ফজিলাতুন্নেছা কখনো বায়না করেননি বঙ্গবন্ধুর কাছে। কোন চাওয়া পাওয়া ছিলো না বঙ্গমাতার। কোন কিছু কেনাকাটার চেয়ে নিজের সঞ্চয়ের টাকা বরং বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরলে তাঁর হাতে দিতেন খরচ মেটাতে।
ঢাকায় আসার পর বঙ্গবন্ধু কারাগারে থাকা অবস্থায় সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। এমন দুঃসময়েও সন্তানদের বড় করা, মানুষ করার পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের আপন করে তাদের পরামর্শ দিতেন, সহযোগিতা করতেন। নিজের গয়না বিক্রি করেও বঙ্গবন্ধুকে সহযোগিতা করেছেন। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি কারাগারে থাকা অবস্থায় দুই সন্তানকে মুক্তিযুদ্ধে পাঠানোর মত ত্যাগ বঙ্গমাতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, সত্যিই তিনি এক মহীয়সী নারী। বঙ্গমাতা নিজে রাজনৈতিক বিভিন্ন আলোচনা পৌঁছে দিতেন কারাগারে বঙ্গবন্ধুর কাছে। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে বঙ্গমাতার পরামর্শেই নিজের মত করে দেশের জন্য যা প্রয়োজন তাই তুলে ধরেছেন বঙ্গবন্ধু তার বক্তব্যে।তার মত একজন মহীয়সী নারীর সার্বিক কর্মকা- সঠিকভাবে তুলে ধরা হলে বিশ্বের অনন্য নারী হিসেবে গণ্য হবেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।
আমরা যখন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ভাবি কিংবা তাঁর সম্পর্কে কথা বলি তখন স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে বঙ্গমাতার কথা। জাতির পিতার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য থেকে নানা উদ্বৃতি উল্লেখপূর্বক বঙ্গমাতার যাপিত জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে -কীভাবে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে বঙ্গমাতা দলীয় কর্মকান্ড সচল রাখতে ভূমিকা রেখেছেন, কীভাবে অবলীলায় দলীয় কর্মী এবং দলের প্রয়োজনে তাঁর সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করেছেন; ৬ দফা, ৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বঙ্গবন্ধুকে অটল থাকতে কীভাবে বঙ্গমাতা সাহস যুগিয়েছেন, অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেও হাসিমূখে কীভাবে সংসার আগলে রেখেছেন তার নানা দিক।
জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকীর প্রেক্ষাপটে বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীর এই আয়োজন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে “একবিংশ শতাব্দীর আজকের এ ডিজিটাল পৃথিবী বঙ্গমাতাকে আরো নতুনভাবে জানবার ও হৃদয়ে ধারন করবার সুযোগ করে দিয়েছে। প্রবাসে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মের শিশু কিশোররা যাতে বঙ্গমাতা সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে পারে সে বিষয়ে আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রয়াস গ্রহণ করতে হবে”।
অপরদিকে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৯১তম জন্মবাষির্কী উপলক্ষে প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। এ সময় ফজিলাতুন্নেসা মুজিবসহ সকল শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এতে।
সকালে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের স্থাপিত প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট পরিষদের নেতৃবৃন্দরা।
এ সময় পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশিরুল হক ভূঞা, নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: সাইফুল্লাহ, পরিষদ সদস্য মংক্যচিং চৌধুরী,এড. আশুতোষ চাকমা, খোকনেশ^র ত্রিপুরা, শতরূপা চাকমা, শাহিনা আক্তার, শুভ মঙ্গল চাকমা, নিলোৎপল খীসাসহ নেতৃবৃন্দরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
#