রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সহযোগিতায় সাফ জয়ী নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহ নির্মাণের জন্য ২০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিবিধ

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

সাফ জয়ী নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহ নির্মাণের জন্য ২০ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করেছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। ৯ জুন মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের লবিতে ঋতুপর্ণার হাতে গৃহ নির্মাণের টাকা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতির প্রহর গোনার অবসান ঘটিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ বিজয়ী এই ফুটবলারের হাতে গৃহনির্মাণের বিশেষ চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে আয়োজিত এই সংক্ষিপ্ত কার্যক্রমে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সরাসরি এই সহায়তা নিশ্চিত করা হয়। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের এই সহায়তার পাওয়ার পর ঋতুপর্ণা চাকমা তার বাড়ী নির্মাণ করতে পারবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম।

উল্লেখ্য, এর আগেও তারকা এই ফুটবলারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল সরকার ও সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব। ২০২৫ সালের ৯ জুলাই তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় ঋতুপর্ণার ক্যানসার আক্রান্ত মা ভূজোপতি চাকমার চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছিল। সে সময় সংগঠনের উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং আহবায়ক আতিকুর রহমান রুমনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সরাসরি পরিবারের কাছে এই সহায়তা পৌঁছে দেন।

ঋতুপর্ণা চাকমা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। পাহাড়ি অঞ্চলের এক সাধারণ ও সংগ্রামী পরিবার থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার নিজের মেধা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও একনিষ্ঠ প্রতিভার জোরে আজ জাতীয় দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছেন। ২০২২ এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়লাভের পেছনে তার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, ২০২৫ সালে দেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের মূল পর্বে কোয়ালিফাই করার গৌরবময় অভিযানেও তিনি অনবদ্য পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন।

ক্রীড়াক্ষেত্রে ঋতুপর্ণার এই অসামান্য সাফল্য কেবল দেশের ভাবমূর্তিকেই উজ্জ্বল করেনি, বরং পার্বত্য অঞ্চলসহ সারা দেশের সহস্রাধিক সুবিধাবঞ্চিত তরুণীকে প্রতিকূলতা জয় করে স্বপ্ন দেখার নতুন প্রেরণা জুগিয়েছে। একজন সংগ্রামী নারী ফুটবলারের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি উদ্যোগকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও যুগান্তকারী বার্তা হিসেবে দেখছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কল্যাণে গৃহীত এ ধরনের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে এবং দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতির ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় ও বেগবান করে তুলবে।

উল্লেখ্য, ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের আর্থিক সহযোগিতায় ঋতুপর্ণার গৃহনির্মাণের এই বিশেষ উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়। এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি’র ভাষ্য হলো, পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতিভাবান যুবসমাজকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে এবং তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের কৃতি খেলোয়াড় ঋতুপর্ণাকে দেওয়া এই উপহার তারই একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত।